OrdinaryITPostAd

About bitcoin বিটকয়েন সম্পর্কে ৫ টি ভুল ধারণা

 


বিটকয়েন সম্পর্কে ৫ টি ভুল ধারণা


১. এসব ভুল ধারণার বিষয়টি শুরু করতে হলে প্রথমেই বলতে হয় বিটকয়েন সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের সবথেকে বড় ভুল ধারণার কথা। এখনও অধিকাংশ মানুষ যারা বিটকয়েন সম্পর্কে কম-বেশি জানেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা হচ্ছে, তারা কখনো বিটকয়েন কিনতে পারবেনা। কারণ, বিটকয়েন কিনতে হলে আপনাকে সর্বনিম্ন ১ বিটকয়েন কিনতে হবে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৫,০০০ ডলার এরও বেশি। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। হ্যাঁ, আপনি বিটকয়েন কিনতে চাইলে আপনি চাইলে ১ বিটকয়েন এবং ১০ বিটকয়েন বা ২০ বিটকয়েন যত ইচ্ছা কিনতে পারেন। কিন্তু সর্বনিম্ন আপনাকে ১ বিটকয়েনই কিনতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি চাইলে ০.১ বিটকয়েনও কিনতে পারবেন এবং চাইলে ০.০১ বা ০.০০১ পরিমাণ বিটকয়েনও কিনতে পারবেন। আপনি যদি ১ টি বিটকয়েন এর সমান দাম দিয়ে সম্পূর্ণ একটি বিটকয়েন কিনতে না পারেন, তাহলেও আপনি চাইলেই ১০০ ডলার বা এমনকি ১০-১৫ ডলার খরচ করে ০.১ বা ০.০০১ পরিমান বিটকয়েনও কিনতে পারবেন।
২. এবার আসি দ্বিতীয় ভুল ধারণার বিষয়ে। এই ভুল ধারণাটিও অনেকেই বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে যাদের বিটকয়েন এবং এই সম্পূর্ণ ক্রিপটোকারেন্সি ইন্ডাসট্রি সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা নেই, তারাই এই ভুল ধারণাটি বিশ্বাস করে থাকেন। তাদের মধ্যে অনেকেই মনে করে থাকেন যে বিটকয়েনের দাম দিনদিন বাড়তেই থাকবে। কখনোই কমে যাবে না। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। বিটকয়েনের প্রাইস প্রত্যেক মিনিট এবং অ্যাকিউরেটলি বলতে হলে প্রত্যেক ১/২ সেকেন্ডে চেঞ্জ হতেই থাকে। কিন্তু চেঞ্জ হয় মানেই যে দাম বেড়ে যায় এমনটা নয়। বিটকয়েনের দাম আগামীকালকে বেড়ে অনেক বেশিও হয়ে যেতে পারে এবং দাম কমে একেবারে সামান্যও হয়ে যেতে পারে। বিটকয়েনের দামের বিষয়টা অনেকটা স্টক মার্কেটের মত। বিটকয়েনের গত কয়েক মাসের প্রাইজ এর আপ-ডাউন দেখলেই বুঝবেন যে এই ধারণাটি আসলে কতটা ভুল। শুধুমাত্র ৩-৪ মাসের মধ্যেই বিটকয়েনের প্রাইস বেড়ে গিয়ে ২০ হাজার ডলারের কাছাকাছিও গিয়েছে এবং আবার ১ মাসের মধ্যে কমে গিয়ে ১১ হাজার ডলারও হয়ে গিয়েছে। তাই বিটকয়েনের দাম শুধুমাত্র বাড়তেই থাকবে এমন ভাবার কোন কারণ নেই।

৩. বার আসি তৃতীয় ভুল ধারণার বিষয়ে। এটি সম্ভবত বিটকয়েন সম্পর্কে সবথেকে ভুল বড় ভুল ধারণা যেটি প্রায় ৮০% মানুষই বিশ্বাস করে এবং এখনো করছে। ভুল ধারণাটি হচ্ছে, বিটকয়েন ট্র্যানজেকশন কেউ কখনো ট্র্যাক করতে পারেনা। প্রায় ৮০% মানুষ যারা বিটকয়েন এবং ক্রিপটোকারেন্সি সম্পর্কে জানেন, তারা বিশ্বাস করেন যে, বিটকয়েনের সবথেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে এটি কবে কখন কে কার সাথে লেনদেন করছে তা অন্য কেউ কখনো ট্র্যাক করতে পারেনা বা জানতে পারেনা। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ সত্যি নয়। অনেকেই হয়ত একটি বিষয় জানেন না যে, বিটকয়েন এর প্রত্যেকটি লেন-দেন হচ্ছে পাবলিক। একজন যখন অন্য আরেকজনকে বিটকয়েন সেন্ড করে বা কেউ যখন বিটকয়েন রিসিভ করে, তখন এই সম্পূর্ণ ট্র্যানজেকশনটি ব্লকচেইনে ইন্টার করা হয় এবং ইন্টারনেটে সংযুক্ত  যেকোনো ব্যাক্তি এই ট্র্যানজেকশনগুলো দেখতে পারবে, যদিও সেখানে যারা বিটকয়েন লেন-দেন করেছে তাদের কোন নাম বা কন্টাক্ট ইনফরমেশন থাকবেনা। থাকবে শুধু যে দুটি বিটকয়েন ওয়ালেট ব্যাবহার করে তারা লেন-দেন করেছে সেই দুটি ওয়ালেট এর অ্যাড্রেস এবং তাতে থাকা বিটকয়েনের পরিমাণ। এই ইনফরমেশনগুলো সবসময়ই পাবলিক। কিন্তু, এদের মধ্যে কেউ একজন যদি তার বিটকয়েন ওয়ালেট ব্যাবহার করে অন্য কোথাও পণ্য কিনে থাকে বা বিটকয়েন ব্যাবহার করে কোথাও কোন স্টোরে পেমেন্ট করে থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। কোন দেশের সরকার যদি চায় কোন একটি বিটকয়েন ট্র্যানজেকশন ট্র্যাক করতে, তাহলে তারা শুধুমাত্র সাস্পেক্টদের বিটকয়েন ওয়ালেট অ্যাড্রেস নিয়ে ওই স্টোরে গিয়ে জানতে চাইতে পারে যে এই বিটকয়েন ওয়ালেট অ্যাড্রেস ব্যাবহার করে কে তাদের কাছ থেকে পণ্য কিনেছে। এটা জানতে চাইলেই স্টোরের ক্যাশিয়ার তাদের রেকর্ড চেক করে বলে দিতে পারবে যে কে এই পণ্যটি কিনেছে। বিষয়টি যদিও একটি কমপ্লিকেটেড, তবুও বিটকয়েন ট্র্যানজেকশন ট্র্যাক করা সরকারের কাছে খুবই সম্ভব, যদি তারা এই বিষয়ে যথেষ্ট রিসার্চ করে।
৪. এবার আসি বিটকয়েন সম্পর্কে মানুষের চতুর্থ ভুল ধারণার বিষয়ে। এই ভুল ধারণাটিও এখনো অনেকের মনেই আছে। এই ভুল ধারণাটি হচ্ছে বিটকয়েন মাইনিং নিয়ে। অনেকেই মনে করেন যে যেকোনো পিসিতেই বিটকয়েন মাইন করা যাবে এবং এটা লাভজনক হবে। কিন্তু এই ধারণাটিও ভুল। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, আপনি চাইলে যেকোনো পিসিতেই বিটকয়েন মাইন করতে পারবেন। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে প্রোফিটেবলিটি নিয়ে। যেমন, আপনি যদি লো এন্ড সিপিইউ বা জিপিইউ ব্যাবহার করে বিটকয়েন মাইন করেন, তাহলে আপনি মাইনিং ঠিকই করতে পারবেন কিন্তু তা একেবারেই লাভজনক হবেনা। যেমন, আমাকে অনেকেই মেসেজ করে জিজ্ঞেস করে যে, ভাইয়া আমি কি ইন্টেল জিপিইউ ব্যাবহার করে বিটকয়েন মাইন করতে পারবো? উত্তরটা হচ্ছে, হ্যাঁ পারবেন কিন্তু দেখা যাবে যে মাস শেষে পিসির জন্য আপনাকে ৫০০ টাকা বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে, কিন্তু আপনি যেটুকু বিটকয়েন মাইনিং করছেন তার থেকে আপনি পাচ্ছেন ২০০ টাকা। সেখানে আপনার প্রায় ৩০০ টাকার মত লস হয়ে যাবে (উদাহরণস্বরূপ)। ঠিক এই কারনে অধিকাংশ পপুলার মাইনিং প্রোগ্রাম যেমন, NiceHash Miner তাদের প্রোগ্রামটি শুধুমাত্র হাই এন্ড জিপিইউ ব্যাবহারকারিদের জন্য লিমিটেড করে দিয়েছে।  তাই, যেকোনো সিপিইউ জিপিইউ ব্যাবহার করেই বিটকয়েন মাইন করতে পারবেন এবং সেটি লাভজনক হবে, এই সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি ভুল ধারণা ছাড়া আর কিছুই না।

৫. এবার বলি আজকের লিস্ট এর পঞ্চম ভুল ধারণার বিষয়ে। আমার মনে হয় বাংলাদেশের প্রায় ৯০% মানুষ যারা বিটকয়েন সম্পর্কে জানেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের এই ভুল ধারণাটি আছে। বাংলাদেশের অনেক মানুষ মনে করেন যে, ক্রিপটোকারেন্সি মানেই বিটকয়েন। আপনার যদি এমন ধারণা না থেকে থাকে, তাহলে আপনি বাকি ১০% এর মধ্যে। কিন্তু যদি এখনো এই ধারণা থেকে থাকে, তাহলে বলি, বিটকয়েন মানেই একমাত্র ক্রিপটোকারেন্সি নয়। বিটকয়েনের মত এমন অনেক অনেক ক্রিপটোকারেন্সি আছে যেগুলোর হয়ত নামও শোনেন নি কখনো। পৃথিবীতে বর্তমানে বিটকয়েনের মত এমন হাজারো রকমের ক্রিপটোকারেন্সি আছে। অবশ্যই এগুলোর মধ্যে বিটকয়েন সবথেকে বড় এবং সবথেকে জনপ্রিয়। তবে বিটকয়েন ছাড়াও আরও কয়েকটি জনপ্রিয় ক্রিপটোকারেন্সি রয়েছে। যেমন- ইথিরিয়াম, লাইটকয়েন, ডোজকয়েন, ড্যাশ ইত্যাদি। এগুলো ছাড়াও আরও অনেক অনেক ক্রিপটোকারেন্সি রয়েছে। অনেক ধরনের ক্রিপটোকারেন্সি রয়েছে যেগুলো কেউ কখনো কিনবেনা বা সংগ্রহ করবেনা বা কোন ভ্যালুও নেই, কিন্তু তবুও সেগুলোও বিটকয়েনের মতই ক্রিপটোকারেন্সি এবং সেগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১